আড়হর

পরিচিতি

বাংলা নামঃ       আড়হর
ইংরেজি নামঃ     Pigeon pea
বৈজ্ঞানিক নামঃ   Cajanus cajus Huth  
পরিবারঃ           Leguminosae

আড়হর শাখা-প্রশাখাযুক্ত গুল্ম উদ্ভিদ। এটি ২ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন- উঁচু হয়। গাছ শক্ত হলেও শাখা-প্রশাখা নরম। প্রতিটি বৃন্তে ৩টি করে পাতা থকে। পাতাগুলি ৫-৭ সে.মি. লম্বা ও ১-১.৫ সে.মি. চওড়া হয়। ভারত বাংলাদেশ সর্বত্র এ গাছ দেখা যায়। তবে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে এ ব্যাপক চাষ হয়। বাংলদেশে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় জুম ও বন বিভাগের বাগান সেবক গাছ (Nurse Crop) হিসেবে আড়হর গাছ উত্তোলন করা হয় কারণ গরু-ছাগল এর পাতা খুব একটা খেতে চায় না। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ২। নীলনদের উপত্যকা এর আদি নিবাস।


বীজ সংগ্রহ ও চারা উত্তোলন

বীজ সংগ্রহ

আরহড়ের বীজ সংগ্রহের সময় নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস। প্রতি কেজিতে ৮০০০-৯০০০টি বীজ পাওয়া যায়। জুলাই-আগষ্ট মাসে ছোট বোঁটায় ফুল ফোটে। ফুল পীতবর্ণ এবং শিরাগুলো লাল বর্ণ। গুঁটি ৬-৯ সে.মি. লম্বা। প্রত্যেক গুটিতে ৩-৫টি বীজ থাকে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফল হয়। প্রতিটি পডে ৩/৫ বীজ/আড়হর থাকে। শুঁটি রোদে শুকালে বীজ আলাদা হয়ে যায়। বীজ ৪/৫ মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়।

 

চারা উত্তোলন

এপ্রিল-মে মাসে বীজতলঅ অথবা রোপণ স্থানে সরাসরি বীজ বপন করা হয়। বীজ ৭-৮ দিনের মধ্যে গজায় এবং ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম হার শতকরা ৭০-৮০ ভাগ। বীজ বপনের আগে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
 

ঔষধি গুন

১। আড়হরের প্রধান ব্যবহার ডায়াবেটিস ও জন্ডিসের নিরাময়ে। জন্ডিসের প্রথম অবস্থায় পাতার রস ৩/৪ চামচ একটু গরম করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
২। ডায়াবেটিসে আড়হর পাতার রস একটু গরম করে খাবেন অথবা মূল ৮-১০ গ্রাম ছেঁচে দুই কাপ পানিতে সিদ্ধ করে আধা কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে খেলে বেশি উপকার হয়।
৩। পিত্ত-শ্লেষ্মাজনিত কাশিতে আড়হর পাতার রস ৭/৮ চামচ একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।
৪। অরুচি যত পুরোনোই হোক না কেন, আড়হর ডালের জুস অল্প আদা ও মরিচ বাটা দিয়ে সাঁতলে তার সঙ্গে পরিমাণমতো লবণ মিশিয়ে বারে বারে একটু একটু করে খেতে হবে।
৫। জিহ্বার ক্ষতে কয়েকটি কচি পাতা ভালো করে ধুয়ে অল্প থেঁতো করে নিয়ে সেটা আস্তে আস্তে চিবাতে হবে। এভাবে ২/৩ দিন করলে ক্ষত সেরে যাবে। তবে এ সময় একটু জ্বালা করতে পারে।
৬। হাতে-পায়ে জ্বালা রোধ হলে আড়হর পাতার রস হাতে-পায়ে মেখে ঘন্টাখানেকে পরে ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়।
৭। সাপের দংশন ও ফোলা-প্রদাহে আড়হর বিচি বাটা প্রলেপ ব্যবহার করা হয় (Ghani, 2003)