নিশিন্দা

পরিচিতি

বাংলা নামঃ      নিশিন্দা
ইংরেজি নামঃ    Chaste Tree.
বৈজ্ঞানিক নামঃ   Vitex negundo Linn.
পরিবারঃ          
Verbenaceae.

বাংলাদেশ প্রায় সর্বত্র এই গাছের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। নিশিন্দা বড় আকারের গুল্ম। ৩-৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ঘন শাখা-প্রশাখা থাকে। ২-৫ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা বৃন্তবিশিষ্ট যৌগিক পত্রের ৩/৫টি পত্রক থাকে। পত্রকগুলি অসমান ও বর্ষাকৃতির। ফুল নীলাভ ও বেগুন। পেনিকল ৩০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফল ছোট ডিম্বাকৃতির ও ড্রুপ।

বিস্তৃতি
বাংলাদেশ প্রায় সর্বত্র এই গাছের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
 

বংশবিস্তার

বীজ হতে বংশবিস্তার সম্ভব হলেও অঙ্গজভাবেই নিশিন্দার বংশবিস্তার সহজ ও প্রচলিত। শজিনার মতো এর কাটিঙের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। অভিজাত নার্সারীতেও নিশিন্দর চারা পাওয়া যায়। বর্তমানে এর চাষের ব্যাপক প্রচলন না থাকলেও হেজ (hedge) উদ্ভিদ হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে।

ঔষধি গুন

১। নিশিন্দার পাতা পরজীবী নাশক এবং এর যক্ষা ও ক্যানন্সারবিরোধী গুণ রয়েছে।
২। পাতা গরম করে যে কোনো ফোলার উপর বা মচকানোর ব্যথা ও প্রদাহ স্থানে রেকে গরম কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিনে ৪/৫ বার বদলাবেন। এতে দুএকদিনের মধ্যে ফোলা কমে যাবে। দেহের যে কোনো স্থানের টিউমারে নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে টিউমার অদৃশ্য হয়ে যাবে।
৩। পাতার রস বা পাতা বেটে সরিষার তেলে পাক করে সে তেল ২/১ ফোঁটা কানে দিলে কানের রোগ আরোগ্য হয়। কানের সব ধরণের ব্যথায় ক্ষতেও এটি ব্যবহার করা যায়।
৪। পাতা চূর্ণ সিকি গ্রাম পরিমাণ খেলে (পূণবয়স্কদের জন্য) গুঁড়া কৃমির উপদ্রব কমে যায়।
৫। নিশিন্দ  গেঁটে বাত সারায় (Ghani, 2003), গেঁটে বাত (Gout) রোগে নিশিন্দার পাঁচন মোক্ষম ওষুধ। সঙ্গে যদি জ্বর থকে, তবুও এতে সুফল পাওয়া যাবে। ৫ গ্রাম পরিমাণ পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে সে পানি খেতে হয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়া ঠিক নয়।

অন্যান্য ব্যবহার

নিশিন্দা কাঠ ধূসর ও সাদা এবং শক্ত, ওজন ৬৭৩ কেজি/ঘণমিটার। নির্মাণ কাজ ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ছাই থেকে রং তৈরী হয়।