পাথরকুচি

পরিচিতি

বাংলা নামঃ       পাথরকুচি
ইংরেজি নামঃ     American Life plant.
বৈজ্ঞানিক নামঃ   Kalanchoe pinnata.
পরিবারঃ           Crassulaceae.

চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রামের নিচু ও জলা/আর্দ্র এলাকায় এটি দেখা যায়। পাথরকুচি একটি শাখাবিহীন গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত আধা মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়, তবে ক্ষেত্রেবিশেষে ১মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। লম্বা বোঁটায় পাতা মাংসল মসৃণ ডিম্বাকৃতি ও কিনারা গোলা খাজকাটা। লম্বা ৮/১২ সে.মি. ও চওড়া ৫/৬ সে.মি.। মজার বিসয় যে, পাতার কিনারা থেকে চারা গজায়, মূল কান্ডের চারদিকে ঘন হয়ে পাতা গজায়।

বিস্তৃতি
বাংলাদেশের সর্বত্র এই পাথরকুচি জন্মায়।

 

বংশবিস্তার
পাথরকুচির বংশবিস্তার বা নতুন চারা উৎপাদন খুব সহজ। একটি পরিপক্ক পাতা ছিড়ে রসযুক্তি মাটিতে রেখে দিলে কয়েকদিন পর পাতার কিনারা থেকে একাধিক নতুন চারা গজায় এবং এর জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় না, তবে মাঝে পানি সিঞ্চন প্রয়োজন।

ঔষধি গুণ

এ ভেষজটি প্রধানত মূত্রবহ স্রোতে কাজ করে এবং ব্যবহার অংশ পাতা।
১। যে কোনো কারণেই হোক বা যে কোনো বয়সেই হোক মূত্র রোধে ২ চামচ পাথরকুচি পাতার রস আধাকাপ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে ও বিকালে খেলে উপকার হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে মাত্রা অর্ধেক।
২। রক্তপিত্তে পাথরকুচি পাতার রস উপরের নিয়মে ২/৩ দিন খাওয়ালেই ধীরে ধীরে কমে যাবে। পুরানো সর্দি বা কফ ও ঠান্ডা লেগে শ্লেষ্মা হলে ২ চা চামচ পাথরকুচি পাতার রস গরম করে সাথে ১৬৫ মি.গ্রা. সোহাগা-খই মিশিয়ে সকাল-বিকাল ২বার খেলে সর্দি চলে যাবে এবং কাশির হাত থেকে বাঁচা যাবে।
৩। ডায়াবেটিস সারাতে পাথরকুচি পাতার রস ব্যবহার হয় (Ethnomed, 1980)
৪। রক্ত আমাশয় সারাতেও পাথরকুচির পাতার রস উত্তম (Ghani, 2003)