জমিতে খাদ্য উপাদান যোগ

সবুজ সার ব্যবহার করার মুখ্য উদ্দেশ্য হল জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করা সবুজ সারের জন্য শিম্বীজাতীয় গাছ যখন ব্যবহার করা হয় তখন জমিতে কেবল নাইট্রোজেনই যোগ হয় না অন্যান্য খাদ্যোপাদান ফসফরাস, পটশিয়াম ও ক্যালসিয়ামেরও যোগ সাধন হয়। নিন্মে সবুজ সারজাতীয় শস্যের খাদ্যেপাদানের পরিমাণের একটি তালিকা উল্লেখ করা হল।

সবুজ সারজাতীয় শস্যের খাদ্যেপাদানের পরিমাণ

সবুজ সারজাতীয় শস্য   নাইট্রোজেন     ফসফেট     পটাশ     ক্যালসিয়াম   
শন   ০.৭৫%    ০.১২%    ০.৫১%       ০.৩৯%   
বরবটী   ০.৭১%    ০.১৫%     ০.৫৮%      ০.৬৪%   
মুগকলাই   ০.৭২%    ০.১৮%    ০.৫৩%      ০.৭৬%   
মাসকলাই   ০.৮৫%     ০.১৮%       ০.৫৩%       ০.৭৪%   

           
সবুজ সার ব্যবহারের ফলে গড়ে প্রতি একরে ৮০/১০০ পাঃ অর্থাৎ হেক্টরে ৯০-১১২.৫ কেজি নাইট্রোজেন যোগ হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে, যেমন-আলফাআলফা শস্যের সাহায্যে জমিতে প্রতি একরে ২০০ পাঃ অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে ২২৫ কেজি পর্যন্ত নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে।
সবুজ সার ব্যবহারের ফলে জমিতে কি পরিমাণ জৈব পদার্থের যোগ সাধন হয় তা প্রধানত এ উদ্দেশ্য ব্যবহৃত ফসলের বিভিন্নতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত প্রতি হেক্টরে ৩ হতে ২৫ টন জৈব পদার্থ যোগ হয়। ভুট্টা অথবা সরগম খুব ভাল জন্মালে তা হতে প্রতি হেক্টরে সর্বাধিক ৬২৫ টন পর্যন্ত জৈব পদার্থ পাওয়া যেতে পারে। তাজা ও শুকনা জৈব পদার্থের অনুপাত ৬ : ১ অর্থাৎ ৬ টন তাজা জৈব পদার্থ ১ টন শুষ্ক জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। কাজেই জমিতে ২৫ টন জৈব পদার্থ যোগ হলে অর্ধেক অর্থাৎ ১৮০০ কেজি হিউমাস যোগ হয়।
সবুজ সার তৈরী করার জন্য জমিতে যে শস্য জন্মানো হয় তাতে ফসফেট ও পটাশ সার প্রয়োগ করলে জমিতে কিছুটা বেশী পরিমাণে নাইট্রোজেন যোগ হয়। ফসফেট ও পটাশের প্রয়োগে গাছের শিকড়ে অধিক সংখ্যায় ও অধিক কার্যক্ষম গুটির সৃষ্টি হয়, তার ফলে গুটিতে অধিক মাত্রায় নাইট্রোজেন আহরিত ও সঞ্চিত হয়।