সবুজ সারের উপকারীতা

জমিতে সবুজ সার ব্যবহার করলে যে উপকার সধিত হয় তা নিন্মে বর্ণণা করা হলঃ


ক) মাটিতে জৈব পদার্থের যোগ

সবুজ সার মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে যা শেষ পর্যন্ত হিউমাসে রূপান্তরিত হয়। জমির উর্বর শক্তি বৃদ্ধিতে হিউমাসের অপদান অপরিসীম। এটি অনেক খাদ্যেপাদান ধরে রাখে ও সেগুলি সময়ান্তরে গাছের গ্রহণযোগ্য করে মাটির রসে ছড়িয়ে দেয়। এটি মাটির ভৌত ধর্মেরও যথেষ্ট উন্নতি করে থাকে, যেমন-মাটির দানাবন্ধন সহজতর হয়, বায়ু চলাচল বাধামুক্ত হয় এবং তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা হয়।

খ) মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ

সবুজ সার প্রস্তুতের জন্য শিম্বীজাতীয় ফসল ব্যবহার করিলে জমিতে কিছু পরিমানে নাইট্রোজেন অবশ্যই যোগ হয়। মাটির উর্বরতা তথা উদ্দিষ্ট ফসলের বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য এটি খুব মূল্যবান উপাদান।

গ) জমিতে জৈবিক প্রক্রিয়া ত্বরান্তিকরণ

সবুজ সারের মাধ্যমে মাটিতে যে জৈব পদার্থের যোগ হয় তা মাটির-মধ্যোস্থিত জীবাণুসমূহের প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত ও ত্বরান্বিত হয়। এই জীবাণূসমূহের কায়ৃকারিতার ফলে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ জৈব পদার্থের প্রোটিন এমোনিয়াতে ও পরে নাইট্রেটে পরিবর্তিত হইয়া গাছের ব্যবহারোপযোগী হয়। এছাড়া  আরো নানারকম জৈবিক ক্রিয়া ফলে মাটির উর্বরতা বেশ বৃদ্ধি পায়।

ঘ) ভূমি ও খাদ্যেপাদান সংরক্ষণ

সবুজ সার ব্যবহারের ফলে জমির উপরের মাটি সংরক্ষিত হয়। ধইঞ্চা, শন, কলাই প্রভৃতি ফসল যখন জমিতে জন্মাতে থাকে তখন সেই শস্যসমুহ এত ঘন হয়ে জন্মে যে বৃষ্টির পানি মাটির উপরে জোরের সঙ্গে পড়তে পারে না অথবা ঝড়ে উপরিভাগের মাটি উড়িয়ে নিতে পারে না, ফলে মাটি ধংসের হাত হইতে রক্ষা পায়।
অন্যান্য শস্যের মতো সবুজ সারজাতীয় ফসলও জমি হতে খাদ্যেপাদান গ্রহণ করে থাকলেও পরে সেই খাদ্য উপকরণসমূহ আবার মাটিতে ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তী প্রধান ফসল সে খাদ্যসমূহ যথারীতি গ্রহণ করে। তাই বলা যায় সবুজ সার শুধু জমিতে নাইট্রোজেনই যোগ করে না রবং অন্যন্য খাদ্যেপাদান মাটিতে সংরক্ষণ বা সঞ্চিত করিয়া রাখে।