কেঁচোর গুরুত্ব

বিজ্ঞানী চালর্স ডারউইন সর্বপ্রথম কেঁচোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সকলকে অবগত করান। তিনি বলেন ‘‘কেঁচো ভুমির অন্ত্র এবং পৃথিবীর বুকে উর্বর মাটি তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রধান  ভুমিকা পালন করে, যার উপর আমরা আমাদের ফসল উৎপাদন করি”। এই অতি সাধারন, ক্ষুদ্র প্রানীটি পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে সোনা ফলাতে পারে, কেঁচোসার বা ভার্মিকম্পোস্টে রুপান্তরিত করে। কেঁচোর উল্লেখযোগ্য কার্যকলাপ গুলি হল-মাটির বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দিয়ে খনন, চলন, আহার এবং পাচ্য পদার্থ মল রুপে নিষ্কাশন। এইসব কার্যকলাপ নির্ভর করে মাটির অম্লতা (pH), জৈব পদার্থের পরিমান, পানি, তাপমাত্রা ইত্যাদির উপর। ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির (species) কেঁচোর কার্যকলাপ বিভিন্ন। সুতরাং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সব ধরণের কেঁচো  একই রকম ভূমিকা পালন করে না। খনন ও চলন ক্রিয়ার মাধ্যমে মাটি কর্ষণ করতে পারে, অপর দিকে কেঁচো ৩ মিটার পর্যন্ত কর্ষণ করে, গাছ পালার কোনরকম ক্ষতি সাধন না করে। ফলে মাটিতে ছিদ্রের সংখ্যা ও পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, মাটির গহবরে পানি প্রবেশ করতে সাহায্য করে। মাটির তলায় (subsoil) পানির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, মাটির ভিতরে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। কেঁচো, মাটি ও জৈব পদার্থ খেয়ে থাকে। আহার প্রক্রিয়া চলাকালীন অনবরত শরীরকে আর্দ্র রাখে। ফলে সবর্দা অতি সামান্য মাত্রায় হলেও মাটির আর্দ্রতা বাড়ায়। সেই সাথে ইউরিয়ার (urea) পরিমান বৃদ্ধি পায়। কেঁচো তার  পোষ্টিক তন্ত্রের সাহায্যে মাটির কনাকে ভেঙ্গে দেয় এবং মাটির ভেতরে অবস্থিত গাছের খাদ্য উৎপাদন গুলিকে সহজ লভ্য করে তোলে। মাটি কণা ছোট হওয়ার ফলে আয়তন বেড়ে যায় মাটির পানিধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলন মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কেঁচোর উপস্থিতিতে মাটিতে বায়ু চলাচল ক্ষমতা ৮-৬৭% বৃদ্ধি পেতে পারে।
আহার পর্বের পর যে পাচ্য পদার্থ মলরুপে নির্গমণ হয় তাকে কাস্ট (cast) বলে। এই কাস্টের ভিতর জীবাণু সংখ্যা এবং তার কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। দেখা গেছে, পারিপার্শ্বিক মাটির তুলনায় কাস্টের মধ্যে জীবাণু সংখ্যা প্রায় হাজার গুণ বেশি। এই কাস্টের উপরে বিভিন্ন প্রকার উৎসেচক উৎপাদনকারী ব্যাক্টেরিয়া জীবাণু বেশি থাকায় মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। যেমনঃ কাস্টের কারণে মাটি থেকে গাছে ৬ শতাংশ নাইট্রোজেন এবং ১৫-৩০ শতাংশ ফসফরাস হতে দেখা গেছে। এছাড়াও অন্যান্য উদ্ভিদ খাদ্য উপাদান যেমনঃ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি, গাছে বেশি পরিমাণে উপলব্ধ হয়। কেঁচোর উপস্থিতিতে জৈব পদার্থের কার্বন ও নাইট্রোজেন অনুপাত (C:N ratio) প্রায় ২০:১ এর কাছাকাছি হয়। এই অনুপাতে গাছ সহজেই কম্পোস্ট থেকে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে।