গুরুত্ব
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য আমাদের পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ প্রয়োজনীয় পুষ্টি ব্যতীত কেউ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারেন না। পুষ্টি উপাদানের জন্য শাক- সবজি ও ফলমূলের গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব রকমারি ফল ও সবজি আমরা খেয়ে থাকি তা কেবল আমাদের রসনার তৃপ্তি দেয় না, আমাদের দেহে ঠিকমত পুষ্টি উপাদান সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
শাক- সবজি ও ফলমূল আমাদের সুষম খাবারের একটি অংশ। সুতরাং এগুলো বাদ দিলে খাবার সুষম হবে না।
ফলমূল ও শাক-সবজি আমাদের শরীরের পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে ভিটামিন ও খনিজ লবনের প্রধান উৎস। এছাড়া বেশ কিছু ফল ও সবজিতে সহজ পাচ্য শর্করা, শ্বেতসার, আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান বিদ্যমান। এসব খাদ্য আমাদের শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
শরীর ভাল রাখার জন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ২৩০ গ্রাম সবজি ও ৫৬ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। কিন্তু আমরা মাত্র প্রতিদিন গড়ে ৭০ গ্রাম সবজি এবং ২০-২৫ গ্রাম ফল খেয়ে থাকি যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩০-৩৫ ভাগ পূরণ করে। বাকি প্রায় ৬৫ ভাগই শরীরে ঘাটতি থাকে। ফলে আমাদের শরীর প্রতিদিন বঞ্চিত হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থেকে।  
একদিকে আমরা প্রয়োজনীয় পরিমান ফল ও সবজি উৎপাদন করতে পারিনা। অন্যদিকে যে পরিমাণ উৎপাদিত হচ্ছে তার একটা বিরাট অংশ সংগ্রহের পর বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয় হচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আমাদের দেশের উৎপাদিত ফলমূল ও সবজির মোট উৎপাদনের শতকরা ২৫-৪০ ভাগ অপচয় কিংবা বিনষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও এসব ফসলের সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে গুণগত অপচয়ের পরিমাণও অনেক বেশি। ভরা মৌসুমেই ফল ও সবজির অপচয় বেশী হয়, অপচয়ের কারণে একদিকে যেমন চাষীরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে দেশবাসীও বঞ্চিত হচ্ছে পুষ্টির বিভিন্ন উপাদান থেকে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই বিভিন্ন রকম পুষ্টিহীনতায় ভূগছে।ফলে দূর্বল স্বাস্থ্যধারী বেশী পরিশ্রম করতে পারবে না এবং তার রোজগারও কম হবে। মনে রাখতে হবে ব্যক্তির উন্নতির উপর দেশের উন্নতি নির্ভর করে। সুতরাং দেশের উন্নতির জন্য আমাদেরকে দেশের তথা ব্যক্তির পুষ্টি চাহিদা পূরণের কথা চিনত্মা করতে হবে। শাক - সবজি ও ফলমূলই পুষ্টি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে।
দশের আপামর জনসাধারণের পুষ্টি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবং ফল ও সবজির বিরাট অংশের অপচয় রোধকল্পে প্রক্রিয়াজাতকরণের বিকল্প নেই। পারিবারিক পর্যায়ে শাক - সবজি ও ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করলে এসব ফসলের অপচয় অনেকাংশে কমে যাবে এবং পুষ্টি সংরক্ষণ হবে, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্যদ্রব্য সারা বছর পাওয়া যাবে যা দেশের পুষ্টি উন্নয়নে সহায়ক হবে। বর্তমানে উৎপাদিত ফল সবজির মাত্র ০.৫% দেশের শিল্প কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। গ্রামের লোকজনদের ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তারা সহজেই ফল ও সবজি থেকে বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্যদ্রব্য বিশেষ করে বিভিন্ন রকম আচার, চাটনি, জ্যাম, জেলী, ইত্যদি সহজেই তৈরি করতে পারবে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অথবা দলগতভাবে বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরি ও সেগুলো বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের ভরণ - পোষণের ব্যবস্থা করতে পারবে। ভালভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ তাদের আয়ের একটি উৎস হতে পারে। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প কারখানায় চাকুরীরও সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তাদের আয়ের সুযোগ বাড়বে। অতএব, শাক - সবজি ও ফলমূলের অপচয় রোধ তথা দেশের পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্ব অপরিসীম।