সাধারণ তথ্য

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

ফলবাগান ও মাতৃবাগান (Fruit Tree & Mother Tree Orchard)
ক) ফলবাগান (Fruit Orchard)
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুধু ফল উৎপাদনের জন্য যে বাগান করা হয় সেটাকে ফলবাগান বলা হয়। ফলবাগানে ফলগাছের রোপণ, পরিচর্যা, ব্যবস্থাপনা মূলত ফল উৎপাদন বৃদ্ধি বা ফলের গুণাগুণ রক্ষার্থে করা হয়।

খ) ফলবৃক্ষ সংরক্ষণাগার (Fruit Tree Repository)
এখানে মুক্তায়িত বিভিন্ন প্রজাতি বা স্থানীয় উন্নত জাতের ফলবৃক্ষ সংরক্ষণ করা হয়। মূলত ফলবৃক্ষ সংরক্ষণাগারে গাছগুলো সর্বদা সুরক্ষিত অবস্থায় থাকবে। এখান থেকে সাধারণত সায়ন সংগ্রহ করা হয় না। এই বাগানের প্রতিটি গাছের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

গ) ফলগাছের যাদুঘর বা ফল জার্মপ্লাজম সেন্টার (Fruit Tree Germplasm Centre)
এখানে মুক্তায়িত বা অবমুক্তায়িত, ভাল-মন্দ, দেশি-বিদেশি, প্রচলিত বা অপ্রচলিত, হারিয়ে যাচ্ছে বা বিলুপ্তপ্রায় সকল প্রকারের ফলগাছের সংরক্ষণ করা হয়। জার্মপ্লাজম সেন্টারে শুধুমাত্র মুক্তায়িত জাতের হুবহু বংশীয় গুণাগুণ সমৃদ্ধ (Pedigree maintained) গাছ হতে মান সম্পন্ন চারা/কলম (Quality planting material) উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়া জার্মপ্লাজম সেন্টারে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়। তদুপরি জার্মপ্লাজম সেন্টারে উন্নত উৎপাদন কলাকৌশল প্রযুক্তি ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ধরণের বাগানের প্রতিটি গাছের তথ্য নিয়মমাফিক সংরক্ষিত থাকা বাঞ্ছনীয়।

ঘ) ফলগাছের মাতৃবাগান (Fruit Mother Tree Orchard)
ফলগাছের যে বাগান শুধু মানসম্পন্ন চারা/কলমের সায়ন উৎপাদনের জন্য স্থাপন ও সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয় তাকে ফলগাছের মাতৃবাগান বলে। এই বাগান বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে যেমনঃ

এলাইট ফ্রুট ট্রি রিপোজিটরি (Elite Fruit Tree Repository)
এই বাগানে শুধু মাত্র সরকার কর্তৃক মুক্তায়িত ঐ এলাকার জন্য অনুমোদিত উন্নত জাত সংরক্ষণ করা হয়। এই বাগান মূলত ফল বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্থাপন করা হয়। ভিত্তি শ্রেণীর কলম উৎপাদনের জন্য এ ধরনের বাগান থেকে সায়ন নেয়া হয়। তবে গাছের চি‎হ্নিত অবয়ব (Identifying structure) যাতে কোন ভাবেই বিকৃত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ফ্রুট ট্রি রিপোজিটরিতে সংরক্ষিত জাতগুলোর পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যাতে বজায় থাকে সর্বদা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই শ্রেণীর মাতৃগাছের বাগানে প্রতিটি গাছের তথ্য যথানিয়মে সংরক্ষিত থাকতে হবে।


এলাইট ফ্রুট ট্রি মাল্টিপ্লিকেশন ব্লক (Elite Fruit Tree Multiplication Block)
এই শ্রেণীর মাতৃগাছের বাগান গবেষণাগার পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলগাছের মুক্তায়িত জাতের হুবহু মাতৃগুন সম্পন্ন গাছের সমন্বয়ে এ বাগান  প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ জাতীয় বাগানে গাছ থেকে সংগৃহীত সায়ন দিয়ে ভিত্তি শ্রেণীর মাতৃগাছ উৎপন্ন করা হয়।

ভিত্তি মাতৃগাছের বাগান বা এফএমটিও (Foundation Mother Tree Orchard)
এফএমটিও বা ভিত্তি মাতৃগাছের বাগান, যা সাধারণত মুক্তায়িত জাত এবং স্থানীয় উন্নত জাত দিয়ে করা হয়ে থাকে। এই বাগানের মূল উদ্দেশ্য হল মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন করে স্থানীয় মাতৃবাগান (এলএমটিও) করার জন্য সরবরাহ করা। এ ধরনের বাগান উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষম সরকারি সংস্থায় (যেমন-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা উপযুক্ত বেসরকারী সংস্থায়) স্থাপিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্থানীয় মাতৃগাছের বাগান বা এলএমটিও (Local Mother Tree Orchard)
এলএমটিও বা স্থানীয় মাতৃগাছের বাগান মূলত উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, নার্সারি মালিক সমিতি এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্থাপিত নার্সারিতেও গড়ে উঠতে পারে। এখানে মুক্তায়িত ও স্থানীয় উন্নত জাতের গাছ লাগানো হয়। এই মাতৃবাগান হতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য নার্সারি মালিকগণ উন্নত জাতের সায়ন সংগ্রহের মাধ্যমে মানসম্পন্ন কলম বা চারা (QPM) তৈরি করে এবং ফল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে গাছ লাগাতে আগ্রহী কৃষক বা জনসাধারণের মাঝে সরবরাহ করে থাকে।

মাতৃগাছ (MT)
যে সমস্ত নার্সারিতে বা প্রতিষ্ঠানে একক জায়গায় মাতৃ বাগান (MTO) করা সম্ভব নয়, সেখানে সঠিক জাতের মাতৃগাছ সুবিধাজনক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে লাগিয়ে মাতৃগাছ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রকৃত মাতৃগাছই যেন রাখা হয় এবং ঐ প্রকৃত মাতৃগাছ হতেই সায়ন নিয়ে মানসম্পন্ন চারা উৎপন্ন ও সরবরাহ করা যায়।

ক্লোনাল হেজ
নার্সারিতে যদি জায়গা খুব কম থাকে, তবে সায়নয়ের উদ্দেশ্যে ঘন করে মুক্তায়িত বা স্থানীয় উন্নত জাতের গাছ লাগাতে যেতে পারে। এতে অল্প জায়গায় অনেক সায়ন পাওয়া যাবে। এ জাতীয় মাতৃগাছের সংগ্রহশালাকে ক্লোনাল হেজ বলে।