বিভিন্ন ফলগাছে ছাঁটাইকরন

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

 

আম গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং (Training and pruning in mango)
ক) আম গাছের ক্ষেত্রে ফল সংগ্রহের পরপরই (জুন-আগস্ট) হাল্কা ভাবে ছেঁটে দেয়া হয়। সাধারণত অন্যান্য ফলগাছের মত আমের ক্ষেত্রে ট্রেনিং খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ প্রাকৃতিকভাবে এটি ডোম আকৃতির হয়ে থাকে। রোপণের পর প্রায় চার বৎসর পর্যন্ত ছাঁটাই ছাড়াই গাছকে বাড়তে দেয়া উচিৎ। তারপর গাছের কেন্দ্রস্থিত কিছু ডাল-পালা পাতলা করে দেয়া উচিত।
খ) বাংলাদেশে বেশির ভাগ জাতের আম গাছই খাড়া প্রকৃতির। এদের অগ্রভাগ স্বাভাবিক আকৃতির এবং সমআকৃতির শাখা-প্রশাখা মিলে গাছকে একটি ছাতার মত আকৃতি দান করে।
গ) পুরনো বা বয়স্ক গাছে ডালে-পালার ছাঁটাই করা প্রয়োজন যাতে করে বেশি পরিমাণ আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং পোকা-মাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গাছে ফল ধরা অবস্থাতে কোন কোন ক্ষেত্রে গাছের পরিধির দিকে যেসব ডালপালা থাকে তাদের চাইতে কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত ডালপালা কেটে ফেলা উচিত। এতে করে প্রচুর সূর্যালোক এবং আলো-বাতাস চলাচল করবে এবং বেশি সায়ন যাওয়া যাবে।
ঘ) আদিজোড়ের নিজ থেকে যেসব শাখা-প্রশাখা বের হবে সেগুলো কাঙ্খিত নয় (Off shoots) এবং অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।
ঙ) অবাঞ্ছিত জল শোষক (Water sprout), খর্ব এবং দুর্বল শাখাসমূহ যেগুলো প্রধান শাখার নিচে ছায়াতে জন্মায় সেগুলো কেটে ফেলতে হবে।
চ) প্রধান কান্ডটিকে ১.৫-২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বাড়তে দিতে হবে যাতে করে আন্তপরিচর্যা করতে সুবিধা হয়। তাছাড়া গাছের বৃদ্ধির প্রথম দিকে একটি মাত্র প্রধান কান্ডসহ গাছটিকে মাটি হতে কমপক্ষে ১-২ মিটার পর্যন্ত বাড়তে দেয়া হয় যাতে করে প্রধান কান্ডটি ভবিষ্যতে কাঠের জন্য শক্ত এবং দৃঢ় হয়।
ছ) অনেক সময় অল্প কিছু ডাল-পালা সতর্কতার সাথে ছাঁটাই করে একবছর পর পর ফল ধারণের প্রবণতা কিছুটা দূর করা যেতে পারে। আমের ক্ষেত্রে কোদাল দিয়ে মূল ছাঁটাই করলে তা প্রতিবছর ফল ধারণে সহায়ক হয়। যে সকল আম গাছের দৈহিক বৃদ্ধি ভাল কিন্তু অনিয়মিত ফলধারী, তাদের ক্ষেত্রেও ছাঁটাই করা প্রয়োজন।
জ) রোগাক্রান্ত, কীটাক্রান্ত, মরা, আধমরা ডাল ছাড়া অন্য কোন ডাল কখনই ছাঁটাই করা উচিত নয়।
ঝ) ৩০-৫০ বছর বয়স্ক গাছ বেশি করে ছাঁটাই করলে ভাল সায়ন দেয়।

কাঁঠাল গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং (Training and pruning in Jackfruit)   
ক) কাঁঠাল গাছের প্রুনিং এর উপযুক্ত সময় হচ্ছে ফল সংগ্রহের পরে জুলাই-আগস্ট মাসে।
খ) কাঁঠালের পুষ্প মঞ্জরি প্রধান শাখা-প্রশাখা খেকে অস্থানিকভাবে বের হয়। প্রধান কান্ড ১.৫-২ মি. উচ্চতা হওয়ার পরে মাথা কেটে দিলে ফল ধারণের জন্য শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়।
গ) কিছু সময় শেকড় অথবা নব পল্লব প্রুনিং করলে গাছ নিয়মিত ফল ধারণে উৎসাহিত হয়।
ঘ) দুর্বল, মরা, রোগাক্রান্ত এবং পোকা-মাকড় ক্ষতিগ্রস্থ শাখা-প্রশাখা প্রুনিং এর মাধ্যমে অপসারিত করতে হবে।

লেবু জাতীয় গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং (Training and pruning in Lemon)
ক) চারা গাছ রোপনের এক বছর পরে প্রতি মাসে শাখা-প্রশাখা পাতলা করতে হবে এবং পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত প্রতি ২-৩ মাসে একবার প্রুনিং করা উচিৎ।
খ) ফল সংগ্রহের পরে ফল ধারণকৃত গাছে খুবই হালকা অথবা কোন প্রুনিং করাই ঠিক নয়, গাছের কোন শাখা-প্রশাখা মাটির সাথে লেগে থাকলে পার্শ্বীয় ভাবে তা কেটে ফেলতে হবে।
গ) রোগাক্রান্ত, কীটক্রান্ত, শুকনা ও দুর্বল শাখাসমূহ তাদের উৎপত্তি স্থান থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে।

লিচু গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং (Training and pruning in Litchi)
ক) প্রধানকান্ড ১-১.৫ মি. লম্বা হওয়ার পরে তার মাথা কেটে ফেলতে হয়। গাছের কাঠামো গঠনের জন্য প্রাথমিক ট্রেনিং এর পরে হালকা প্রুনিং দরকার হয় ।
খ) গাছকে কাঙ্খিত আকার দেওয়ার জন্য আড়াআড়ি শাখা-প্রশাখা, রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ এবং মরা শাখাপ্রশাখা ছাড়া সাধারণত অন্য ডালপালা প্রুনিং করা হয় না।
গ) লিচুর ফুল ধারণ অধিকাংশ নতুন ডালের চলতি বছরের বৃদ্ধি উপর নির্ভরশীল এবং পুরাতন শাখা খুব কম/অনিয়মিত ফুল উৎপাদন করে থাকে। পুরাতন শাখা কর্তনের ফলে নতুন শাখা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। যেহেতু লিচুর থোকা কিছু ডালসহ সংগ্রহ করা হয়, তাই শাখা কর্তন পরোক্ষভাবে লিচু সংগ্রহের সময় কিছুটা আপনা আপনিই হয়ে থাকে।
ঘ) যখন কোন গাছ বৃদ্ধ হয়ে যায় এবং খুব ছোট আকারের ফল উৎপাদন করে তখন অতিরিক্ত প্রুনিং করে ঐ গাছের নব্যতা (Rejuvenization) অনেকটাই ফিরিয়ে আনা হয়।

বরই গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং (Training and pruning in Jujube)
ক) একটি সুন্দর শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করার জন্য বরই গাছকে প্রথম ২-৩ বছর যথাযথভাবে ট্রেনিং করতে হবে। রোপণের পরে, যখন নতুন পাতা বের হয়, তখন বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেস দিতে হবে এবং গাছকে সোজাভাবে বাড়তে দিতে হবে।
খ) ১-২ মি. উচ্চতার ভিতর প্রাথমিকভাবে প্রধান ৫ টি শাখা করতে হবে, যাদের মধ্যে বায়ু চলাচল ও সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সুন্দর জায়গা বিরাজ করে, এই সমস্ত গাছের সুন্দর বৃদ্ধি এবং আকারের ভারসাম্যতা বজায় থাকে ।
গ) বরই গাছে নতুন বৃদ্ধি প্রাপ্ত ডালপালায় সদ্য গজানো উপরের পাতার কক্ষে ফল ধারণ করে। সুতরাং গাছের একটি সুন্দর শক্তিশালী কাঠামো প্রদানের জন্য প্রতিবছরই নিয়মিত প্রুনিং দরকার, তাতে গাছে অধিক পরিমাণে ফল/সায়ন ধারণের জায়গা সৃষ্টি হয়।
ঘ) ঘন ডালপালা দূর করার জন্য মাঝে-মাঝে কিছূ কিছু শাখা পাতলা করা দরকার।
ঙ) ফল প্রদানের পর গরম ও শুষ্ক মৌসুমে যখন এরা পাতা ঝরানো শুরু করে তখনই প্রুনিং এর জন্য উপযুক্ত সময়।
চ) বাংলাদেশে মার্চ-মে মাস হচ্ছে প্রুনিং এর উপযুক্ত সময়। ফলের ভাল গুণগত মান এবং উপযুক্ত ফলনের জন্য ১ বছরের গাছকে ১/৪ অংশ মাথা কেটে ফেলে দেয়া হয় (Heading back)।