কাঁটা তারের বেড়া

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

নার্সারিতে বেড়ার কাজে কাঁটা তারের বেড়ার ব্যবহার প্রচলন বেশি। এ ব্যবস্থায় চারিধারে প্রায় ২.০ মিটার দুরত্বে খুটি অথবা আর সি সি পিলার পুতে বা গেড়ে দিয়ে তাতে কাঁটা তার শক্ত ভাবে বেধে দিতে হয়। বেড়ার উচ্চতা ১.৫-২.০ মিটার হতে পারে। নিরাপত্তার গুরুত্বে ২০-৩০ সেঃমিঃ তফাতে সমান্তরালভাবে ৫-৭টি কাঁটা তারের স্তর থাকা প্রয়োজন। নিচের ২-৩টা কাঁটা তার কিছুটা ঘন করে এবং উপরের তারগুলো কিছুটা পাতলা করে লাগালে ভাল হয়। এ ব্যবস্থায় ছোট ছাগল বা অনুরূপ প্রানী বেড়ার ভেতরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না। কাঁটা তার আর সি সি পিলার ছাড়াও এক ধরনের লোহার কৌণিক (এ্যাঙ্গেল) বারের সাহায্যে ব্যবহার করা যায়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই খরচ কিছুটা বেশি পড়ে এবং এ ব্যবস্থা অনেকটা স্থায়ী। বিকল্প হিসেবে বাশেঁর বা কাঠের খুঁটি ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও জীবন্ত খুঁটি হিসেবে জিয়াল, মান্দার, শিমুল, সাজিনা, ইপিল ইপিলের মোটা ডাল ব্যবহার করা যায়। এ সকল ডালের খুঁটি পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে রূপ নিতে পারে। জীবন্ত খুঁটির জন্য ২-২.৫ মিটার লম্বা খুঁটির পোল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাটিং পোতার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সেগুলো যথাযথ ভাবে মাটিতে পোতা হয়েছে।
কাঁটা তারের বেড়ার সাথে লাইন করে কাঁটা মেহেদি, রংগন, জবা, ইত্যাদি গাছ লাগানো যেতে পারে। এই কাঁটা তারের বেড়ার সাথে লাইন করে গাছ লাগানোর দুইটি লাভ জনক দিক আছে।
প্রথমত বেড়াটি আরোও মজবুত ও গাছের হেজ হওয়াতে ছোট খাট জন্তু জানোয়ার ঢুকতে পারবে না। আর যে সকল পোকা মাকড় ভাইরাস নামক রোগ বহন করে তারা প্রথমে ঐ বেড়ার গাছে বসবে তাতে ভাইরাস প্রথমে ঐ বেড়ার গাছে লেগে যেতে পারে তাতে ভাইরাস রোগ সমপ্রসারণ কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়াও পর পরাগায়নের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত ঐ সকল গাছের কাটিং তৈরি করে বিক্রি করা যায়।

সুবিধা        
ক. এ ধরণের বেড়ার খরচ খুব একটা বেশি নয়।
খ. বাজারে কাঁটা তার পেতে অসুবিধা নেই।
গ. কিছুটা স্থায়ী ব্যবস্থা।
ঘ. আলো বাতাস সহজেই চলাচল করতে পারে।

অসুবিধা
ক. প্রতিরক্ষার দিক থেকে তত ভাল নয়।
খ. মাঝে মাঝে মেরামতের প্রয়োজন পড়ে।
গ. নার্সারির গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় না।