সাধারণ তথ্য

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

একটি গাছ বা একাধিক গাছ হতে নতুন কোন চারা পাওয়াকে গাছের বংশবিস্তার বলা যেতে পারে। আমরা গাছের বীজ বা অন্যান্য অংগ থেকে নতুন গাছের চারা/কলম পেতে পারি। বীজ দ্বারা গাছের যে বংশবিস্তার হয়ে থাকে তাকে যৌন বংশবিস্তার বলা হয়।
যৌন কোষ ছাড়া মাতৃগাছের অন্যান্য কোষ, যেমন - কুঁড়ি, পাতা, ডাল, শিকড়, বাকল ইত্যাদি থেকে যে প্রক্রিয়ায় মাতৃগাছের অনুরুপ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন গাছের জন্ম হয় তাকে অযৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার বলে।

 
বংশবিস্তারের প্রকারভেদ

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  


 
যৌন- সুবিধা/অসুবিধা

 

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

 

                  

যৌন পদ্ধতির সুবিধা
১) যে সব ফল গাছ সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করতে পারেনা সেসব ফল গাছের বংশবিস্তারের জন্য যৌন পদ্ধতি একমাত্র উপায়। যেমনঃ তাল, নারিকেল প্রভৃতি। তবে বর্তমানে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
২) বীজ থেকে উৎপন্ন গাছ সাধারণত অধিক কষ্টসহিষ্ণু হয় ও বেশী দিন বাঁচে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়-বৃষ্টি, খরা বা যে কোন প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
৩) এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট গাছ অধিকতর মজবুত কান্ড ও শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট এবং সুগঠিত-বিস্তৃত শিকড় বিশিষ্ট হয়। গাছের প্রধান মূল মাটির বেশ অভ্যন্তর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে যা গাছকে যথেষ্ট যান্ত্রিক সহায়তা প্রদান করে।
৪) সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতির আর কোন বিকল্প নেই।
৫) যৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তারের জন্য তেমন কোন কারিগরী জ্ঞান ও দক্ষতার দরকার হয় না।
৬) অপেক্ষাকৃত সহজ ও সস্তায় এবং কম পরিশ্রমে চারা পাওয়া যায়।
৭) বংশবিস্তারক দ্রব্য বা বীজ সহজে দূরবর্তী স্থানে নেয়া যায়।
৮) আদিজোড় (rootstock) হিসেবে ব্যবহার করার জন্য যৌন পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই চারাগাছ জন্মানো যায়।
৯) বহুভ্রুণবিশিষ্ট বীজের একধিক চারা মাতৃগুণসম্পন্ন হওয়ায বাগান তৈরীর কাজে এগুলোকে অধিক ব্যবহার করা যায়।

যৌন পদ্ধতির অসুবিধা
১) বীজ থেকে উৎপন্ন গাছে কখনো মাতৃগাছের গুণাগুন অক্ষুন্ন থাকে না। এজন্য মিষ্টি আমের আটি থেকে উৎপন্ন গাছে যে আম হয় তা সাধারণত টক হতে দেখা যায়।
২) গাছ লম্বা, উঁচু ও বড় হওয়ায় ফল সংগ্রহ কষ্টকর হয়।
৩) এ প্রক্রিয়ায় জন্মানো গাছে ফুল-ফল আসতে দেরী হয়।
৪) গাছ বড় আকারের হওয়ায় নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে কমসংখ্যক গাছ লাগাতে হয়।
৫) কিছু কিছু ফলের যৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায় না অংগজ বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার ঘটে। যেমনঃ আনারস, কলা।
৬) আঙ্গিক বৃদ্ধি বেশী হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে।
৭) এ পদ্ধতিতে জন্মানো একটি গাছের সঙ্গে অন্য একটি গাছের আকার আকৃতি ও ফলের গুনাগুনের মধ্যে অসমঞ্জস্যতা কম থাকে।

 
অযৌন- সুবিধা/অসুবিধা

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

অযৌন বা অঙ্গজ বংশবিস্তারের সুবিধাঃ
১. কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাছ আছে যেমন- কলা, আনারস, আংগুর, ডুমুর, গোলাপ গার্ডেনিয়া প্রভৃতি ধরনের গাছ সজীব ও প্রকৃত বীজ উৎপাদন করতে পারে না। তাই এসব গাছের বংশকে টিকিয়ে রাখার জন্য অযৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে হবে।
২. বীজ থেকে উৎপাদিত গাছের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না। তাই মাতৃগুন সম্পন্ন গাছ পেতে হলে অযৌন পদ্ধতিতে নতুন গাছ উৎপাদনের প্রয়োজন হয়।
৩. অনেক গাছের বীজ খুব আস্তে আস্তে গজায় অথবা বীজের সজীবতা দ্রুত নস্ট হয়, সেক্ষেত্রে অযৌন বংশবিস্তার ছাড়া বিকল্প উপায় নাই।
৪. মাতৃ গুনাগুন সমৃদ্ধ ফল পাওয়া যায়।
৫. অযৌন পদ্ধতিতে জন্মানো গাছ ছোট আকৃতির হয়। এজন্য এসব গাছের ফল সংগ্রহ ও পরিচর্যা সহজ হয়। অপর দিকে অল্প জায়গায় বেশি গাছা লাগানো যায়।
৬. এ পদ্ধতিতে নতুন গাছ তৈরিতে কোন কোন ক্ষেত্রে সময় কম লাগে। অনেকটা সহজ উপায়ে ও কম খরচে বংশবিস্তার করা যায় (কচু, মিষ্টি আলু, আলু)।
৭. একই গাছে একাধিক জাতের ফুল (গোলাপ) এবং ফল (আম) প্রাপ্তির সুবিধা পাওয়া যায়।

অযৌন বংশবিস্তারের অসুবিধাঃ
১. এ পদ্ধতিতে কোন নুতন জাত উদ্ভাবন করা যায় না।
২. এ পদ্ধতিতে বংশবিস্তারে খরচ ও শ্রম বেশী লাগে।
৩. এ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে গেলে যথেস্ট কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা দরকার হয়।
৪. এ কাজের জন্য দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায় না।
৫. অংগজ উপায়ে বংশ বৃদ্ধিকারী গাছসমূহ সাধারণতঃ কম দিন বাঁচে।
৬. এ পদ্ধতি যে সব গাছের বংশবিস্তার ঘটানো হয়, সে সব গাছের শিকড় কম বিস্তারশীল হয় বিধায় ঝড় ঝাপটায় ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে।
৭. অংগজ অংশসমূহ পরিবহনে অসুবিধা সৃষ্টি হয়।
৮. স্টক বা সায়ন ডাল রোগাক্রান্ত হলে সম্পুর্ণ গাছটিতে রোগ দেখা দেয়। কলমের গাছে কিছু রোগ, যেমন- লেবুর ক্যাংকার সহজে কলমের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।