বীজতলার তথ্য

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

সংগা
বীজতলা বলতে আমরা এমন একটি জায়গাকে বুঝি যেখানে বীজ বপন করে  বিশেষ যত্নের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়।
কিছু কিছু সবজির বীজ, যেমন- লালশাক, পালংশাক, শিম, বরবটি, গাজর, মূলা সরাসরি মূল জমিতে বোনা যায়। আবার কিছু  কিছু সবজি যেমন - ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ইত্যাদি সরাসরি জমিতে বুনে আবাদ করা যায় না। বীজ তলায় বিশেষ যত্নের মাধ্যমে এগুলোর চারা উৎপাদন করে মূল জমিতে রোপন করতে হয়। আবার উন্নত জাতের ফলের কলম করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কলমের চারা উৎপাদন করা হয়। বীজতলায় উৎপাদিত চারার বিশেষ যত্ন নেয়ার সুযোগ থাকে বিধায় চারাগুলো সতেজ ও শক্ত চারা হিসাবে গড়ে উঠে। এই উদ্দেশ্যেই আমরা বীজতলা তৈরী করি।



আদর্শ বীজতলার মাপ

কাজের সুবিধার জন্য একটি আদর্শ বীজতলার মাপ সাধারণতঃ ৩ মিটার দীর্ঘ (১০ ফুট) ও ১ মিটার প্রস্থ (৩ ফুট) হওয়া প্রয়োজন। তবে চারার সংখ্যা অনুযায়ী বীজতলার দৈর্ঘ্য কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে।
গ্রীস্মকালীন ও শীতকালীন চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজতলার উচ্চতার তারতম্য থাকে। গ্রীস্মকালীন বীজতলার উচ্চতা সাধারণতঃ ১৫ সেঃমিঃ উঁচু হওয়া দরকার এবং শীতকালীন বীজতলার ক্ষেত্রে ৭ - ৮ সেঃমিঃ উচ্চতাই যথেষ্ট। পানি নিকাশের সুবিধার জন্য গ্রীস্মকালীন সময়ে বীজতলা অপেক্ষাকৃত উঁচু রাখার প্রয়োজন পড়ে।

আদর্শ বীজতলা তৈরী

 

                  

নির্দিষ্ট মাপমতো একটি বীজতলার চারকোণে চারটি খুটি পুঁতে দড়ি দিয়ে যুক্ত করে রেখা টানুন। ৩ মিটার লম্বা ও ১ মিটার চওড়া করে একটি আয়তকার ক্ষেত্র তৈরী করুন। এবার এর ৪ কোণায় ৪টি খুঁটি পুঁতে চার দিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিন। তারপর কোদাল দিয়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি বা ১৫ সেঃ মিঃ গভীর করে মাটি খুড়ে তুলে ফেলুন এবং নিম্নবর্ণিত তিনটি স্তরে বীজতলাকে সাজান।

ক) সর্বনিম্ন স্তরঃ প্রায় ৭.৫ সে:মি: বা ৩ ইঞ্চি পুরাতন সুরকি , ভাংগা ইট, পোড়া মাটি ইত্যাদি।
খ) মধ্য স্তরঃ ৭.৫ সে:মি: বা ৩ ইঞ্চি দোঁ-য়াশ মাটি ও বালুর মিশ্রণ।
গ) উচ্চ স্তরঃ ৭.৫ সে:মি: বা ৩ ইঞ্চি বেলে-দোঁয়াশ মাটি , পঁচা গোবর ও কম্পোষ্ট সারের মিশ্রন।

 

আদর্শ বীজতলার বিভিন্ন স্তর
উচ্চ স্তরটি সমতল ভুমি হইতে শীতকালে ৭-৮ সে: মি: উঁচু হবে। বীজতলা যাতে অতি বর্ষায় ভেংগে না যায় এ জন্য ছিদ্র যুক্ত ইট বা বাঁশের চটা দিয়ে বীজতলার উপরিভাগের চার ধার বেধে দিতে হবে। বীজতলার মধ্যভাগ দু কিনারা হতে একটু উঁচু হওয়া দরকার। এতে বৃষ্টির পানি বা অতিরিক্ত পানি সহজেই গড়িয়ে বের হয়ে যেতে পারবে। একই ভাবে বীজতলার তৈরীর পদ্ধতি অনুসরণ করে মাটির টব, ঝুড়ি, চাড়ি, কাঠের বাক্স প্রভৃতিতেও চারা উৎপাদন করা যায়। এ পদ্ধতির সুবিধা হলো অল্প পরিসরে চারা উৎপাদন করা যায় এবং প্রতিকূল অবস্থায় সহজেই চারাকে এক স্থান হতে অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়। 
 

বীজতলা জীবানুমুক্তকরণ

 

                  

বীজ তলায় বীজ বপনের পর চারা গজালে অনেক সময় দেখা যায় চারা গোড়া পচা রোগে আক্রান্ত হয় এবং অনেক চারা মারা যায়। আবার অনেক সময় চারার শিকড় ক্রিমিতে আক্রান্ত হয়, গিটের সৃষ্টি করে। এ সকল ক্রিমি আক্রান্ত চারা মাঠে রোপনের আক্রমনের ব্যাপকতা বাড়লে ক্ষেতে গাছ ঢলে (wilting) পড়ে। বীজ বপনের পূর্বে যথাযথ ভাবে বীজতলা শোধনের আমরা এ ক্ষতির হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করতে পারি। নিম্নে বীজতলা শোধন পদ্ধতি গুলোর বিবরণ দেয়া হলোঃ

ক) তাপ প্রয়োগঃ
চারটি পদ্ধতিতে তাপ প্রয়োগ করে বীজতলার জীবানুমুক্ত করা যায়।

১। লোহার কড়াই বা ড্রামের মাধ্যমে জীবানুমুক্ত করণঃ
বীজতলার উপরের ১০-১৫ সে: মি: মাটি চুলার উপর লোহার কড়াই বা ড্রামে নিয়ে তাপ দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে পারি। এ পদ্ধতিতে ১ ঘন্টা সময় আগুনের তাপে মাটিকে ভেজে নিয়ে জীবানুমুক্ত করা যাবে।

২। সরাসরি তাপের মাধ্যমে জীবানুমুক্তকরণঃ
বীজতলার উপরে ভাল ভাবে খড় বিছিয়ে দিয়ে তারপর ঐ খড়ে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে।  ঐ আগুনের তাপে বীজতলার উপরের ৫ সে:মি: মাটি জীবানুমুক্ত হবে। এ পদ্ধতিতে জীবানুমুক্ত করার পর খড় পোড়া ছাই মাটির সাথে এমন ভাবে মেশাতে হবে যেন বীজতলার মাটির ২-৩ সে:মি: গভীরতার নিচে না যায়। প্রতিবারই বীজ বপনের পূর্বে এভাবে মাটি শোধন করে নিতে হবে। তাপের মাধ্যমে বীজতলা জীবানুমুক্ত করতে গেলে মাটিতে রক্ষিত নাইট্রোজেন সার বাতাসে উড়ে যায় ফলে মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব দেখা দেয়।  

৩। বাস্পের মাধ্যমে জীবানুমুক্তকরণঃ
এই পদ্ধতিতে বীজতলার উপরিভাগের ১০ সে: মি: মাটির মিশ্রণের ভিতর গরম পানির ভাপ ৭০ ডিগ্রী সে: গ্রে: তাপমাত্রায় আধাঘন্টা রাখা হলে মাটিতে বসবাসকারী ক্ষতিকারক জীবানু ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু উপকারী জীবানুর তেমন ক্ষতি হবে না। এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে এই পদ্ধতিতে খরচ অনেক বেশী, তাই আমাদের দেশের জন্য তেমন কার্যকর নয়।


৪। সৌর তাপের মাধ্যমে জীবানুকুক্তকরণঃ
সোলারাইজেশন বা  সৌর তাপের মাধ্যমে জীবানুমুক্তকরণ আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, সস্তা ও কার্যকর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বীজতলার মাটি ভালভাবে কোপানোর পর সমতল করে, সাদা ও স্বচ্ছ পলিথিন সিট দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দিতে হবে। তারপর ২/৩ সপ্তাহ ঢাকা অবস্থায় সরাসরি সুর্য্য রশ্মি স্বচ্ছ পলিথিন সিটের উপর পড়বে। এতে করে বীজতলার মাটির ভিতর গরম হয়ে যে তাপ সৃষ্টি হবে তাতে ক্ষতিকারক জীবানুগুলো অসুস্থ্য হয়ে মারা যাবে।  এছাড়া তাপবৃদ্ধির ফলে বিষাক্ত এমোনিয়া গ্যাস নির্গত হবে। তাই এ পদ্ধতিতে জীবানুমুক্ত করার সাথে সাথে বীজতলায় বীজ বপন করা যাবে না। এই বিষাক্ত গ্যাস কোদাল দিয়ে কোপালে ধীরে ধীরে বের হয়ে যাবে। তারপর বীজ তলায় বীজ বপন করা যাবে। এই পদ্ধতিতে বীজতলায় বসবাসকারী পোকা মাকড় মারা যাবে আন্যথায় তারা স্থান ত্যাগ করবে।

খ)   রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ
তিন ধরণের রাসায়নিক দ্রব্য আছে যা প্রয়োগে বীজতলা জবীবানুমুক্ত করা যায়।

১) ফরমালডিহাইড
২) মিথাইল ব্রোমাইড ও
৩) ক্লোরোপিক্রিণ

নিম্নে ফরমালডিহাইড বা ফরমালিন এর মাধ্যমে বীজতলা শোধণের পদ্ধতি আলোচনা করা হলো। বাজারে ফরমালিনের দুই ধরণের গ্রেড আছে । এক ধরণের গ্রেড গবেষণাগারে ব্যবহার হয় যা অত্যন্ত দামী। আর একটি বাণিজ্যিক গ্রেড যা দামে সস্তা। ফরমালিন একটি উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ। উদ্বায়ী হলো এমন পদার্থ যা খোলা জায়গায় রাখলে উড়ে যায়। যেমন- সিপ্রট বা পেট্রোল। বীজতলা জীবানুমুক্ত করার জন্য প্রতি ১ লিটার বাণিজ্যিক ফরমালডিহাইডের সাথে ৫০ লিটার পানি মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। এই মিশ্রন প্রতি ১ বর্গ মিটার বীজতলার  জন্য প্রায়  ১২ লিটার বীজতলার উপর ছিটাতে হবে। তারপর বীজতলা ৪৮ ঘন্টা অর্থাৎ ২ দিন ত্রিপল বা পলিথিন  সিট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে ফরমালিনের বাস্প সংরক্ষণ করা যায়। এরপর ত্রিপল বা পলিথিন সরিয়ে দিয়ে বীজতলা ১০-১৫ দিন উম্মুক্ত রাখতে হবে। এসময় কোদাল দিয়ে বীজতলা ভালোভাবে কোপায়ে ফরমালিনের গ্যাস বের করে দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ ফরমালিণের গন্ধ থাকবে ততক্ষণ ঐ বীজতলায় বীজ বপন করা ঠিক হবে ন।  এই পদ্ধতিতে বীজতলার মাটিতে বসবাসরত সব ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু কিছু আগাছা বীজও ধ্বংস হয়ে যাবে।

বীজতলা জীবানুমুক্ত করার পর ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো ডেটল/ সেভলন পানিতে ডুবিয়ে জীবানুমুক্ত করে নিতে হবে।

 

বীজতলায় বীজ বপন

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

বীজতলার উপরের স্তর ভালভাবে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে তৈরী করতে হবে। এতে মাটির ভিতরে সহজেই বাতাস ও পানি চলাচল করতে পারবে। চারা গুলোর শিকড় সহজেই মাটিতে প্রবেশ করে খাদ্য ও রস গ্রহণ করতে পারবে। এরপর বীজতলার উপরের স্তর সমান করে বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের সময় সমস্ত বীজতলা জুড়ে সমানভাবে বীজ ছিটিয়ে বা লাইন করে বীজ বপন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বীজতলার কোথাও যেন বেশী বীজ এবং কোথাও কম বীজ না পড়ে। তবে ছিটিয়ে বীজ বপনের চেয়ে লাইনে বীজ বপন করা উত্তম, কারন উৎপন্ন চারাগুলো ঠিকমত আলো বাতাস পায়, খাদ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা কম হয়, সুস্থ্য-সবল ও মান সম্পন্ন চারা উৎপন্ন হয়।

কোন কোন সবজির বীজ কিছু সময় ভিজিয়ে রাখার পর বপন করা হয়। এতে বীজে অংকুরোদগম ভাল হয়। তবে কপি জাতীয় সবজি ও টমেটোর বীজ বপনের পূর্বে ভিজানোর প্রয়োজন পড়ে না।  

বিভিন্ন বীজের ভিজিয়ে রাখার সময়কাল নিচে দেখানো হলোঃ

 

বীজের নাম ভিজানোর সময়কাল  বীজের নাম        ভিজানোর সময়কাল   
বেগুন     ২৪-৪৮ ঘন্টা    লাউ    ৪-৬ ঘন্টা   
মরিচ    ৪৮ ঘন্টা    কুমড়া   ৪-৬ ঘন্টা   
পুই শাক    ২৪ ঘন্টা    করলা      ৪-৬ ঘন্টা   
গীমাকলমী    ২৪ ঘন্টা     গাজর    ২৪ ঘন্টা  
পেঁয়াজ     ২৪ ঘন্টা    পানং শাক ৪-৬ ঘন্টা   


বীজ যত ক্ষুদ্র হবে (তামাক, সরিষা) মাটিকে তত বেশী ঝুরঝুরে করতে হবে। ছোট আকারের বীজ সমতল হতে ৫ মি:মি: গভীরে বপন করতে হবে। বড় আকারের বীজ যেমন - শিম, লাউ, করল্লা ইত্যাদি সমতল থেকে ২-৩ সে:মি: গভীরে বপন করতে হবে। যেসব বীজের আবরণ শক্ত সেগুলোর ক্ষেত্রে বীজকে বিশেষভাবে ফাটিয়ে বপন করতে হবে যেমন- বরই। বীজতলায় বীজ বপনের পর বীজ চাটাই দিয়ে বীজ তলাটি ঢেকে দিতে হবে। অনেক জাতের সবজি ও ফলের বীজে গজানোর সাথে সাথে পিঁপড়া লাগে ও গজানো বীজগুলো সব নিয়ে যায়। এজন্য বীজ বপনের পর পরই বীজতলার চারদিকে সেভিন পাউডার বা ছাই এর সাথে কেরোসিন মিশিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। 

বীজতলার পরিচর্যা

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

বীজতলায় বীজ বপনের ২ দিন পর থেকে বীজ কি পরিমাণ গজালো তা লক্ষ্য রাখতে হবে। বীজ গজানো শুরু হলে সাথে সাথে বীজতলা ঢেকে রাখা চাটাই তুলে ফেলতে হবে। গজানো চারা অতিরিক্ত রৌদ্র ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের চাটাই অথবা অন্য কিছু দিয়ে তৈরী ঝাপ ব্যবহার করতে হবে। চাটাই অথবা ঝাপ এমন ভাবে খুটর উপরে দিতে হবে যেন  বীজতলা থেকে ১.৫ ফুট বা ৪৫ সে:মি: উপরে থাকে।
    
সকাল বিকাল চাটাই অথবা ঝাপ সরিয়ে দিয়ে চারাগুলোতে রোদ বাতাস লাগানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। চারাগুলো যতই আকারে বাড়বে ততই তাদের রোদের তীব্রতা সহ্য করবার শক্তি বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজন বোধে সকাল বিকাল ঝাঝারি দিয়ে হালকা  সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। চারার বয়স ১০/১২ দিন হলে কাঠ অথবা ক্ষুদ্রাকার নিড়ানী দিয়ে বীজতলার মাটি হালকাভাবে আলগা করে দিতে হবে এবং আগাছা দমন করতে হবে। এই ভাবে প্রতি ২/৩ দিন অন্তর অন্তর মাটি আলগা করতে হবে। কপির বীজ গজানোর ১৪/১৫ দিন পর অথবা চারাগুলো চার পাতা বিশিষ্ট হলে অন্য একটি আলাদা বীজতলায় রোপন করলে শিকড় অধিকতর শক্তিশালী হয় ও উৎপাদন ভালো হয়। চারার বৃদ্ধি ভালো না হলে, প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম ইউরিয়া সার গুলে চারার উপর সেপ্র করলে চারা গুলো আরোও সতেজ হবে। তবে কোন অবস্থাতেই বেশী ইউরিয়া সার দেয়া ঠিক হবে না।

বীজতলার মাটি যদি ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে তবে মাটিতে বসবাসকারী জীবানুগুলো সক্রিয় হয়ে পড়ে এতে বিভন্নি প্রকার রোগ দেখা দিতে পারে। এসব রোগের ভিতর গোড়া পচা রোগ উল্লেখযোগ্য। এই রোগের কারণে অনেক সময় চারা উৎপাদন কষ্টকর হয়। এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে বীজতলা শুকনা রাখা, কুপ্রাভিট অথবা ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সেচের পানির সাথে প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যাবে। 


 

চারা তোলার সময়

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

চারা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বীজতলায় রাখা যাবে না। বীজ বপনের ২৫-৪৫ দিনের মধ্যে অধিকাংশ চারা রোপণের উপযোগী হয়। বৃদ্ধির হার স্বাভাবিক হলে বীজ বপনের কতদিন পরে বিভিন্ন প্রকার সবজির চারা রোপনের উপযোগী হয় তা  নিচের তালিকা এ দেখানো হলো। তবে চারা তোলার ৫-৭ দিন আগে থেকে পানি সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। এতে গাছে শর্করার পরিমাণ বেশী হবে ও চারা তোলা জনিত আঘাত সহ্য করতে পারবে। 

 

বিভিন্ন চারার উত্তোলনকালীন উপযুক্ত বয়স নিচে দেখানো হলোঃ

চারার নাম     রোপণের সময়কাল    চারার নাম     রোপণের সময়কাল   
ফুল কপি    ২৫-৩০ দিন    টমেটো ৩০-৩৫ দিন   
বাধা কপি    ২৫-৩০ দিন     বেগুন  ৪০-৫০ দিন   
ওল কপি    ২৫-৩০ দিন       মরিচ   ৪০-৫০ দিন   
শালগম   ২৫-৩০ দিন      পেঁয়াজ ৪৫-৫০ দিন   
লেটুস     ২৫-৩০ দিন       পুঁইশাক  ২৫-৩০ দিন    
বিট   ২৫-৩০ দিন       চায়নাকপি   ২৫-৩০ দিন    


 

চারা তোলার পদ্ধতি

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

বীজতলা থেকে চারা উঠানোর সময় একবার হালকা সেচ দিয়ে চারা উঠানো উচিত এত চারার শিকড় কম ছিড়ে ও রোপণজনিত আঘাত দ্রুত সেরে উঠে। চারার উঠানোর সময় চিকন কোচা কাঠি দিয়ে মাটিতে চাপ দিলে চারাগুলো সহজেই উঠে আসবে।

চারা সংরক্ষণ ও পরিবহণ

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

চারা উঠানোর পর পরই রোপন করা উচিত, এতে করে চারার স্বাস্থ্য ভাল থাকে। তবে অনেক সময় চারা সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। তখন ঠান্ডা অন্ধকারযুক্ত স্থানে চারা ২৪ ঘন্টা থেকে ৩৬ ঘন্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। সেক্ষেত্রে চারার পাতায় প্রয়োজনমত পানি ছিটিয়ে দেওয়া দরকার। উৎপাদিত চারা দুর দূরান্তে নেওয়ার পূর্বে ও চারা তোলার পূর্বে ভালো ভাবে সেচ দিতে হবে যাতে পরিবহনের সময় চারার শরীরে পানির অভাব না হয়।

 

চারা বিক্রয়

ইন্টারকোঅপারেশন - এএফআইপি প্রকল্পের সৌজন্যে আপডেটকৃত

                  

চারা রোপনের উপযুক্ত হলে বিক্রয় করতে হবে। চারা বিক্রির জন্য তোলার সময় চারা তোলার পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিক্রিত চারা কলাপাতা, কচুপাতা অথবা পলিথিন কাগজ দিয়ে গোড়া বেঁধে পাতার উপর সামান্য পানি ছিটিয়ে দিয়ে ক্রেতার হাতে দিতে হবে।